দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান বাবর। তিনি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের বাহিনীকে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাবর বলেন, র্যাবের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের সময় শুধু সাম্প্রতিক ১৫ বছরের ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। তার মতে, এর আগের সময়ে সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীটির ভূমিকা ছিল।
তিনি ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। এসব অভিযানে র্যাবের সাফল্যের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল বলেও দাবি করেন সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
র্যাবের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব না থাকার ওপর গুরুত্ব দেন বাবর। তিনি বলেন, বিএনপির আগের সরকারের সময়ে র্যাব দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে এবং তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।
তার দাবি, ওই সময়ে র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করা হয়নি। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছিল।
র্যাবের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাবর বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছিল। তখন র্যাবের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন।
তিনি জানান, র্যাবের পরিবর্তে নতুন কোনো কাঠামো তৈরির বিষয়ে তখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আর তার সঙ্গে আলোচনা হয়নি বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে র্যাবের পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের উদ্যোগকে পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন না বাবর। বরং দেশের নিরাপত্তার জন্য বিশেষায়িত একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাবর বলেন, দেশে এখনো বিভিন্ন ধরনের বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আশপাশের দেশগুলোর কর্মকাণ্ড ও অতীতের বিভিন্ন ঘটনাও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
তার ভাষ্য, এসব বাস্তবতায় র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। নতুন নামে এসআরবি গঠন করা হলে সেটিও দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বিরোধী দলের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বাবর বলেন, প্রস্তাবিত এসআরবি দেশের জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা প্রকাশ্যে সংসদে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে বিশেষায়িত একটি বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাবরের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন একই বিল নিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি র্যাব বিলুপ্ত করে একই ধরনের কাঠামো নতুন নামে চালু করার বিরোধিতা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বাবর মনে করেন, দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত সংগঠন প্রয়োজন। তবে এ বাহিনী কীভাবে পরিচালিত হবে এবং জনগণের আস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।