ফ্যাসিবাদের সময়ে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশে গ্যাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও তা উত্তোলনের জন্য বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অদৃশ্য এক শক্তির প্রভাবে ওই সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের সমাপনী পর্বে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সংকটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানি না দিয়ে বিরোধী দলগুলোকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলগুলোর আয়োজিত লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লং মার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করা সম্ভব হতো, তাহলে সরকারি দলই সবার আগে লং মার্চ করত। জনগণের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক কর্মসূচির হাতিয়ার না করে সংকট উত্তরণে সহযোগিতা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকেও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংসদের ভেতরেই জাতীয় সমস্যা, সম্ভাবনা ও সংকট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদের প্রতিটি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থবহ হয়েছে—এমন দাবি করা না গেলেও জাতীয় সংসদকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।
জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। গ্যাস ও বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং দুই বছর আগে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
এ অবস্থায় অতীতের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো বর্তমান সংকটও দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ জন্য সরকার, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সংসদকে কার্যকর রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে দেশের চলমান সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে।