ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিকারমুড়া গ্রামের তরুণ প্রবাসী মো. নাজমুল চৌধুরী (২৫) সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্লাস ফিটিংসের কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মো. আব্দুল হাই চৌধুরীর একমাত্র ছেলে।
তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে নাজমুল পাড়ি জমিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার হাল ধরতে, বৃদ্ধ বাবা-মাকে একটু স্বস্তি দিতে সে বিদেশের পথে পা বাড়িয়েছিল। কঠোর পরিশ্রম করে প্রতি মাসে কিছু অর্থ পাঠাতো, যাতে ঘরটা টিকে থাকে, মায়ের মুখে হাসি ফোটে।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস— ২-৩ মাস পর দেশে ফিরে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল নাজমুল। বিয়ের কেনাকাটার কথাও পরিবারে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু সেই সুখের আয়োজনের বদলে ১৫ অক্টোবর বিকেলে দুবাইয়ের একটি তিনতলা ভবনে কাজ করার সময় ব্যবহৃত রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায় সে।
সবার সামনে মুহূর্তেই নিথর দেহ হয়ে পড়ে থাকে নাজমুলের। সহকর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়ে যায়— যে ছেলেটি একটু আগেই হাসছিল, গল্প করছিল, সে এখন নিস্তব্ধ!
শোকে পাথর নাজমুলের মা। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, শুধু একটাই কথা বলছেন—
“আমার একমাত্র ছেলেটা আর ফিরে আসবে না! আল্লাহ, তুমি ওকে ফিরিয়ে দাও…”
গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে কান্নায়। প্রতিবেশীরা বলছেন, নাজমুল ছিল অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও পরিশ্রমী এক তরুণ। কারও সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলত না, নিজের মতো করে সবার ভালোবাসা কুড়িয়ে নিয়েছিল।
তার মৃত্যুতে শিকারমুড়া ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রবাসে কাজ করা অনেক তরুণ এখন আতঙ্কে— “আমরাও কি নিরাপদ?”
নাজমুলের পরিবার সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে স্বজনরা প্রিয় মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারেন।
একজন তরুণের অসময়ে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ক্ষতি।
যে ছেলেটি মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়েছিল বিদেশে, সে এখন ফিরছে লাশ হয়ে—
এ যেন হাজারো প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবনের প্রতিচ্ছবি।