কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানো হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ার কারণ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জমির মালিকের সন্তানরা। উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডশিপ স্কুল’-এ প্রায় এক মাস আগে তালা ঝোলানো হয় বলে জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ফ্রেন্ডশিপ’ নামের একটি এনজিও ওই এলাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি চাইলে গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী শর্তসাপেক্ষে ৫০ শতাংশ জমি দান করেন। পরে সেখানে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে প্রায় সাত বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির শর্ত পূরণ না করায় গত ৪ মার্চ বিদ্যালয়টিতে তালা ঝোলান জমিদাতা ইব্রাহিম আলী। পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের চাপের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম আলীর ছেলে মাসুদ রানা বলেন, “আমার বাবার কাছ থেকে প্রকৃতভাবে কোনো চুক্তিপত্র নেওয়া হয়নি। তারপরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমরা বিষয়টি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার মানের অবনতি এবং পরীক্ষায় নকলের মতো অনিয়ম চলছিল। এসব কারণে আমার বাবা বিদ্যালয়ে তালা দেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপেই তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট এনজিওর শিক্ষা প্রকল্পের সহকারী ব্যবস্থাপক আযম খান। তিনি বলেন, “জমিদাতার সঙ্গে কোনো শর্তের ভিত্তিতে চুক্তি হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে শিক্ষকতার চাকরি চাওয়া হয়েছিল, যা আমাদের এখতিয়ারে নেই। বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানোয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”