অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: পানিসম্পদ মন্ত্রী
ঢাকা: পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ঢাকা শুধু একটি শহর নয়; এটি দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নানা সংগ্রামের সাক্ষী। ৪১৬ বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাজধানীকে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, একটি শহরের উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট, ভবন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য নগরজীবনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সমাজের দায়িত্ব। তাদের প্রতিভাকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে সমান সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের ভেতরে থাকা প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজন। তাদের সক্ষমতা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলে তারা ভবিষ্যতে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে ‘৪১৬ বছরে ঢাকা’ শিরোনামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাসব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের প্রশংসা করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন আয়োজনের মাধ্যমে রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে নিজেদের শহর ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ঢাকার ইতিহাস অনেক পুরোনো। সময়ের সঙ্গে এই নগরীর পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মানুষের বসবাস ও নাগরিক চাহিদা। তাই ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীকে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নগরীর মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন তাদের সমাজের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চারুকলা ও শিল্পকলার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া দুস্থ শিল্পীদের অনুদান বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, একটি জাতির সামগ্রিক বিকাশে সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের চিন্তা, মনন ও সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হয়। তাই নগর উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। তাদের আঁকা বিভিন্ন ছবি অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারুশিল্পী অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আযহারুল ইসলাম শেখসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন একটি মানবিক নগর প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ার পাশাপাশি সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও আরও শক্তিশালী হবে।