যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে কাজ করছে সরকার: রেল প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
আধুনিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, একটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে সরকার এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার রাজধানীর গোড়ান-খিলগাঁও এলাকার শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন রুবেলের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের ভিত্তি
রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে ব্যয়কে কোনোভাবেই অপচয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং শিক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একটি দক্ষ, জ্ঞাননির্ভর ও প্রযুক্তিসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়া নয়; বরং তাদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শুধু মেধাবী হলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্যের মাপকাঠি নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেধা একজন মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ তাকে প্রকৃত অর্থে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের পর তা অর্জনে নিয়মিত অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো পরিস্থিতিতেই হতাশ হয়ে হাল না ছাড়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
১০ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম
সরকারের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে পাঠদান আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতেও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতে বিভিন্ন প্রণোদনামূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৯ হাজার ছাত্রীকে পিঙ্ক কালারের সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিলের লক্ষ্য
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্কুলে উপস্থিতি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষকদের সম্মানিত করার উদ্যোগ
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষকদের অবদানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন রেল প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকরা জাতির বিবেক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগর। তাই তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
ভালো কাজে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ১০০ জন শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে সম্মাননা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা ও অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে তারা আরও উৎসাহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও তাদের অর্জনের প্রশংসা করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায়ও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।