প্রথমবারের মতো ইউরোপ ভ্রমণে গিয়ে প্রায় দেড় মাস সময় কাটিয়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। দীর্ঘ এই সফরে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। নতুন নতুন জায়গা, স্থানীয় খাবার, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই অভিজ্ঞতা তার কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ স্মরণীয়।
প্রিয়ন্তী জানান, এবারের ইউরোপ সফরটি তার আগের বিদেশ ভ্রমণগুলোর তুলনায় বেশ আলাদা। প্রায় ৪৫ দিনের এই সফরে তিনি নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরেছেন। একই সঙ্গে ইউরোপে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন।
তার ইউরোপ ভ্রমণ শুরু হয় নেদারল্যান্ডস দিয়ে। সেখানে আমস্টারডাম, জ্যানসে স্কানস, রটারডাম, দ্য হেগ, গিথুর্ন ও হোক ভ্যান হল্যান্ডসহ বেশ কিছু জায়গায় ঘুরেছেন তিনি।
নেদারল্যান্ডসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে অভিনেত্রীকে। বায়ুকল, খাল, খোলা আকাশ এবং ছোট ছোট কুটিরের সমন্বয়ে দেশটির পরিবেশ তার কাছে ছবির মতো মনে হয়েছে। বিশেষ করে গিথুর্নের শান্ত পরিবেশ এবং খালপাড়ের কুটিরগুলো তার মনে আলাদা ছাপ ফেলেছে। সমুদ্রপ্রেমী প্রিয়ন্তীর কাছে হোক ভ্যান হল্যান্ডের সমুদ্রও ছিল আকর্ষণের অন্যতম জায়গা।
নেদারল্যান্ডসের পর প্রিয়ন্তী যান বেলজিয়ামে। ব্রাসেলস ও গেন্ট শহর ঘুরে দেখেন তিনি। দেশটির স্থাপত্যশৈলী তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। ব্রাসেলসের প্যালেস অব জাস্টিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার পাশাপাশি বেলজিয়ান চকলেট ও ওয়াফেলের স্বাদও নিয়েছেন।
প্রিয়ন্তীর কাছে ভ্রমণের অর্থ শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়। তিনি মনে করেন, কোনো দেশের স্থানীয় খাবার চেখে দেখার মাধ্যমেও সেই দেশের সংস্কৃতি ও জীবনযাপনকে কাছ থেকে বোঝা যায়।
এরপর ফ্রান্সে গিয়ে প্যারিস ও ডিজনিল্যান্ড প্যারিস ঘুরেছেন অভিনেত্রী। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার দেখার অভিজ্ঞতাও ছিল তার ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। ভাষাগত কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হলেও শহরটির শিল্প, স্থাপত্য ও পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে। ডিজনিল্যান্ডে কাটানো সময়কে তিনি দেখেছেন আলাদা আনন্দের অভিজ্ঞতা হিসেবে।
জার্মানিতে প্রিয়ন্তী ঘুরেছেন বার্লিন, ব্ল্যাক ফরেস্ট, লান্ডাউসহ বিভিন্ন এলাকায়। স্বামীর সঙ্গে বার্লিনে দীর্ঘ সময় হেঁটে শহর দেখার স্মৃতিকে তিনি বিশেষভাবে মূল্যবান বলে মনে করেন। প্রচুর হাঁটা, নতুন জায়গা দেখা এবং একসঙ্গে সময় কাটানো তার কাছে সফরের অন্যতম সুন্দর অংশ হয়ে উঠেছে।
সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেন ও গ্রিন্ডেলওয়ার্ল্ডও প্রিয়ন্তীর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে ইন্টারলাকেনকে তার কাছে পৃথিবীর স্বর্গের একটি অংশ বলে মনে হয়েছে।
প্রিয়ন্তী জানান, দেশের বাইরে তার প্রথম ভ্রমণ ছিল ভারতে, ২০১৬ সালে। তখন তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং এর আগে কখনও বিমানে চড়েননি। প্রথমবার আকাশপথে বিদেশ যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা এখনো তার মনে আছে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। শুরুতে বিদেশ বলতে অনেকটা ভারতের মতোই কিছু ভাবলেও পরবর্তী ভ্রমণগুলো তাকে বুঝিয়েছে, প্রতিটি দেশের রয়েছে আলাদা সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও জীবনযাপনের ধরন।
প্রায় ৪৫ দিনের ইউরোপ সফরকে তাই শুধু ভ্রমণ হিসেবে দেখছেন না প্রিয়ন্তী। তার ভাষায়, এই সময়ে তিনি অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। শপিং, স্থানীয় খাবার, প্রকৃতি দেখা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রিয় মানুষটির সঙ্গে পুরো যাত্রা ভাগ করে নেওয়া।
ইউরোপের বিভিন্ন জায়গার সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করলেও ভ্রমণসঙ্গীর সঙ্গে কাটানো সময়গুলোই তার কাছে এই সফরের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান প্রিয়ন্তী উর্বী।