1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
অটোরিকশা ছিনতাইয়ে চালকদের হত্যা, কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার
Tuesday, 15 September 2026, 02:04 pm
Headline :
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি শিল্প-কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ইউনূস সরকারের সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের সময়ে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী নয়: শফিকুর রহমান ইরানের পাশে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি

অটোরিকশা ছিনতাইয়ে চালকদের টার্গেট, কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার

  • Update Time : Tuesday, 15 September, 2026, 01:55 pm
  • 4 Time View




অটোরিকশা ছিনতাইয়ে চালকদের টার্গেট, কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি: এ.কে. পলাশ

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যার অভিযোগে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে নাঙ্গলকোটের অটোরিকশাচালক মেহেদী (১৮) ও নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আরমান হোসেন (১৫) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, অটোরিকশা ছিনতাই করতেই চালকদের টার্গেট করতেন মানিক। ছিনতাইয়ের পর অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চালকদের হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে একাধিক হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাঁকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আতিয়াবাড়ী এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তের মাধ্যমে মরদেহটি অটোরিকশাচালক মো. মেহেদীর বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

মামলাটির তদন্তে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মেহেদীকে হত্যার পর তাঁর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন। এ মামলায় মানিক ও সেলিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মেহেদী হত্যা মামলার তদন্তের সময় মানিকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। পরে সেটির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মোবাইল ফোনটি মানিকের নিজের নয়। এটি গত ২৪ জুলাই নিখোঁজ হওয়া অটোরিকশাচালক আরমান হোসেন ব্যবহার করতেন।

আরমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর মামা নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তে আরমানের চালানো অটোরিকশার কাটা অংশ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিনজন জানান, তাঁরা অটোরিকশাটি মানিক ও সেলিমের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তাঁদেরও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জ থানার বিনয়ঘর এলাকায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে মানিকের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্য আসামিদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে পান তদন্তকারীরা।

পুলিশ জানায়, আরমানকে অপহরণের মামলায় মানিক ও সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা আরমানকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর মানিক আদালতে আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মাধ্যমে আরমান নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তদন্তে উঠে এসেছে, এর আগেও অটোরিকশাচালক হত্যার অভিযোগ রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান সাইমন (১৭) নামে এক অটোরিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহজাহান সাইমনকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়। লাশ কাপড়ে পেঁচিয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরের পাশে একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনায় লাকসাম থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের দাবি, মানিকের অপরাধের মূল লক্ষ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাই। এ উদ্দেশ্যে তিনি অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করতেন। তদন্তে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পাশাপাশি চালকদের হত্যার ঘটনায়ও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মানিককে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য এখনো আদালতে বিচারাধীন বিষয়। মামলাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category