বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোরে-স্মেরেচনিয়াক।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে জাতিসংঘের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য বলছে, জাতিসংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি উন্নয়ন কার্যক্রমে ধারাবাহিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
সূত্র জানায়, নির্বাচনে বিজয়ের পর জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। নতুন সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার-এ নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বহুপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানান।
অভিযোগ উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না থাকায় মানবিক সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফলে শরণার্থী সহায়তায় অর্থায়ন অব্যাহত রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এদিকে ইউএন আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোরে-স্মেরেচনিয়াক বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাস্তব অগ্রগতি কবে দৃশ্যমান হবে।
এর আগে দিনের শুরুতে ইউএন প্রতিনিধি ক্যারল ফ্লোরে-স্মেরেচনিয়াক পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।