নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের অনুসন্ধানে সাবেক তিন গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়কার বিভিন্ন নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু নথি কমিশনের হাতে এসেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ অনুসন্ধানে উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লাকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা অনুমোদনের নথি, সংশ্লিষ্ট নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের দায়িত্বকালীন সময়ে বিশেষ একটি গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি তলব করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহারের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কপিও কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিও চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে নগদ সহায়তা, বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার নামে ঋণ সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারিগরি দায়িত্বে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার নথিও তলব করেছিল দুদক। দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দায় নির্ধারণ হয়নি।