পঞ্চগড় প্রতিনিধি
বদলির আদেশ জারির পরও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। এবার তার বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউএনও।
অভিযোগকারী রেহেনা বেগম উর্মি তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন, ছেলের চাকরির জন্য আফরোজ শাহীন খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে ধারদেনা করে তিনি প্রথম দফায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। চাকরি হওয়ার পর বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়া হয়নি।
গত ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়। এরপর চাকরি কিংবা টাকা—কোনোটিই না পাওয়ার আশঙ্কায় সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেসবুক লাইভে এসে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চান রেহেনা বেগম।
লাইভ ভিডিওতে তাকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, “আপনি আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন, কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন। আমি গরিব মানুষ। টাকার চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। আপনি হয় চাকরি দেন, না হয় টাকা ফেরত দেন।” এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
রেহেনা বেগমের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ করার পর তাকে মোবাইল কোর্টে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “আমি ওই নারীকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো দিন দেখা হয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি বাতিল হয়েছে। সেখানে তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।”
এর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়াসহ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন।
এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আফরোজ শাহীন খসরুর সমর্থনে মানববন্ধন করেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।