অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালালে পারস্য উপসাগর অবরুদ্ধ করবে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত রাখলে পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে সামুদ্রিক বিধিনিষেধ এলাকা ও অবরোধ তৈরি করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাব দিতে ইরান তার সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
পারস্য উপসাগর অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি
মহসেন রেজাই তার পোস্টে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে সামুদ্রিক বিধিনিষেধ এলাকা তৈরি এবং অবরোধের পরিধি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপকে শুধু অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে মোকাবিলা করার পরিবর্তে সামুদ্রিক ও সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে তেহরান।
রেজাইয়ের এমন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। ফলে এই অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচল সীমিত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পড়তে পারে।
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা
ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, সম্প্রতি ইরানে তৈরি নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তেহরান সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের বিষয়েও বার্তা দিতে চাইছে।
তবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম, পাল্লা, সক্ষমতা কিংবা পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ওই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ঘাঁটি নিয়ে ইরানের অবস্থান
মহসেন রেজাই বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে ইরানের সামরিক কৌশল ও কার্যক্রমে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আনা হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান এখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে আগের তুলনায় ভিন্ন কৌশলে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের বিপরীতে তেহরানের সামরিক প্রস্তুতিও পরিবর্তিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উত্তেজনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি চলছে।
অর্থনৈতিক চাপের পাল্টা সামরিক বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কেন্দ্রে অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিপরীতে তেহরানও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে।
মহসেন রেজাইয়ের সর্বশেষ বক্তব্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধের সঙ্গে পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে সরাসরি যুক্ত করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু অর্থনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এদিকে পারস্য উপসাগরকে ঘিরে যেকোনো সামুদ্রিক বিধিনিষেধ বা অবরোধের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইরান বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে রেজাইয়ের বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়নি।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিকে ঘিরে সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের দাবি সেই অবস্থানকেই তুলে ধরছে।
তবে পারস্য উপসাগর ঘিরে ইরানের হুঁশিয়ারি বাস্তবে কী রূপ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র এর কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি