1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা জোরদারের তাগিদ
Tuesday, 08 September 2026, 02:53 pm

চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা জোরদারের তাগিদ

  • Update Time : Tuesday, 8 September, 2026, 02:16 pm
  • 5 Time View
চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা জোরদারের তাগিদ
চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা জোরদারের তাগিদ




চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা জোরদারের তাগিদ

 

দেশে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগের বাইরে রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা, শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক করার তাগিদ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

 

তিনি বলেছেন, দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ এখনো সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ প্রাপ্তবয়স্ক। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী অনেক শিশুও কোনো না কোনো কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের ফিরিয়ে আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ শিক্ষার বাইরে

 

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে এখনও প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে এই জনগোষ্ঠী প্রায় চার কোটির কাছাকাছি। তাদের একটি বড় অংশ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

 

তিনি বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে হবে না। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মূল্যবোধ তৈরি এবং কর্মজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

প্রতিমন্ত্রীর মতে, শিক্ষা ও দক্ষতার মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আবারও মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পরিচালনা করতে হবে।

 

বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না কোনো শিশু

 

অনুষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশু সঠিক শিক্ষা পাবে—এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

 

তিনি বলেন, সঠিক শিক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা। একটি শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই তার শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দক্ষতাও তাকে অর্জন করতে হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি শিশু শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সে নিজের কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

 

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে শক্তিশালী করার আহ্বান

 

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের মধ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

 

তিনি বলেন, সংখ্যার বিচারে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এর চলমান কার্যক্রম আরও ফলাফলমুখী করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্পের রিস্কোপিং, রিডিজাইনিং ও রিফোকাসিং করতে হবে।

 

তার ভাষ্য, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করলেই হবে না। প্রকল্পের মাধ্যমে কত মানুষ বাস্তবে শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ পেলেন, কতজন বিদ্যালয়ে ফিরলেন এবং তাদের জীবনমানের কতটা পরিবর্তন হলো—এসব বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে।

 

শিক্ষা বাজেটের কার্যকর ব্যবহার

 

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, শিক্ষার জন্য বরাদ্দ বাজেটের বড় একটি অংশ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের ফিরিয়ে আনা, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় করা প্রয়োজন।

 

শুধু অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটের প্রতিটি টাকা মানুষের সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

 

তার মতে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো প্রয়োজনীয় হলেও তার পাশাপাশি শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বাস্তব দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

 

সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ

 

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

দেশে সাক্ষরতার হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকায় তাদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের শিক্ষা ও দক্ষতা সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শুধু নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি যারা নানা কারণে শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছেন, তাদের জন্যও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

এ ক্ষেত্রে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা, শিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরানো এবং কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের আলোচনায় উঠে আসে, দেশের প্রায় চার কোটি মানুষকে শিক্ষা ও দক্ষতার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে আরও ফলাফলভিত্তিক করা গেলে এই জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category