ধানমন্ডি ৩২ লেকে দুই মণ মাছের পোনা অবমুক্ত, বৃক্ষরোপণ
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর লেকের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। লেকের জলজ পরিবেশ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আশপাশের সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লেকের পানিতে প্রায় দুই মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে তিনি লেকসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর লেকে অবমুক্ত করা মাছের পোনার মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, গ্রাস কার্প, মিরর কার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতি। এসব মাছ লেকের জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, লেকের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শুধু পোনা অবমুক্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; মাছগুলোর জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি বলেন, লেকের মাছ যাতে অবৈধভাবে শিকার বা চুরি করা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। এ জন্য ধানমন্ডি থানা পুলিশ, ধানমন্ডি সোসাইটি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে নজরদারি করবেন।
মাছ শিকার ঠেকাতে নজরদারি
লেকের মাছের পোনা রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন অবমুক্ত করা মাছ বড় হওয়ার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণে অবৈধভাবে মাছ ধরার চেষ্টা ঠেকাতে স্থানীয়দেরও সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে।
লেকের জলাশয়কে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে না দেখে এর পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাছের প্রজনন ও বিচরণ উপযোগী পরিবেশ বজায় থাকলে লেকের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লেক এলাকায় বৃক্ষরোপণ
মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর লেকসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেখ রবিউল আলম। রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধানমন্ডি ইউথ ক্লাবের সভাপতি শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি বলেন, ধানমন্ডির বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, নগর এলাকায় গাছের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এসব গাছকে বড় করে তুলতে পারলে স্থানীয় পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পরিবেশ সুরক্ষায় ধারাবাহিক উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি নগর লেকের পরিবেশ রক্ষায় জলাশয়ের পাশাপাশি আশপাশের সবুজ এলাকারও গুরুত্ব রয়েছে। মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন—দুই ধরনের উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন জলাশয় দখল, দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ঝুঁকির মধ্যে এ ধরনের কর্মসূচি জনসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অবমুক্ত করা মাছ ও রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের উদ্যোগে তাদের অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়।
আয়োজকদের আশা, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর লেকের মাছের পোনা নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষা পেলে জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য বাড়বে। পাশাপাশি ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে ধানমন্ডি এলাকার পরিবেশ আরও সবুজ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।