কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১
কুমিল্লা প্রতিনিধি: এ.কে. পলাশ।
কুমিল্লায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধ**র্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকসহ চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাকিব (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে প্রেমিক সিয়ামের ফোন পেয়ে চান্দিনার নিজ বাড়ি থেকে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর এলাকায় আসে ওই কিশোরী। পরে কোটবাড়ি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সিয়াম তাকে মোটরসাইকেলে করে লালমাই পাহাড়ের সাধেরমুড়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই সিয়ামের বন্ধু সাকিব, মারুফসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যার পর সেখানে কিশোরীর ওপর একাধিক ব্যক্তি পশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ভোরের দিকে সাকিব মোটরসাইকেলে করে কিশোরীকে পাহাড়ি এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য কালীরবাজার ইউনিয়নের রায়চো এলাকায় নিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিশোরী সাহস করে স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
এ সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সাকিবকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে কোতোয়ালি থানাধীন নাজিরাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাকিবকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি সদর দক্ষিণ থানা এলাকার নির্জন পাহাড়ি স্থানে ঘটেছে। আটক সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের কাছে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
আটক সাকিব আদর্শ সদর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন নির্জন পাহাড়ি এলাকায়। আটক আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর বাবা থানায় উপস্থিত রয়েছেন। তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সিয়ামসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।