চরভদ্রাসন উপজেলায় প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাবের সুযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা থেকে দেদারসে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকা ও ফসলি জমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের নতুন দোকান এলাকার জয়দেব সরকারের ডাংগীর পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন জায়গা থেকে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও ভেকু ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে বাজারজাত করছে। প্রতিদিন ধাপে ধাপে বালু কেটে নেওয়ায় এলাকাজুড়ে ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল উদ্দিনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাহেদ হোসেনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ ওঠেছে, নির্দেশ দেওয়ার পরও অদ্যাবধি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই উপজেলার আব্দুল গফুর মৃধার ডাংগী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করলেও বিষয়টির কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক্সচেঞ্জ চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক্সচেঞ্জ রাকিব হোসেন সরেজমিনে পরিদর্শনে আসবেন—এমন খবরে ওই দিন ড্রেজার ও ভেকু সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে আবার আগের মতোই বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন,
“পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো ভূমিকা নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।”
অন্যদিকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাহেদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ও নদীভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।