ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি ভর্তি থাকা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান ও তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। রোগীরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে হাসপাতালের সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কার্যালয়েও যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের হাজিরা খাতা এবং ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন তিনি।
পরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শনকালে রিনা আক্তার নামে এক উপসহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখতে পান। হাজিরা খাতায় বৃহস্পতিবার ও রবিবার তার অনুপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিন্নাত রেহানার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মন্ত্রী। পরে প্রশাসনিকভাবে তাকে সদরপুরে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, রিনা আক্তার এর আগে প্রায় এক মাস আগে টানা ১৪ দিনের বেশি সময় ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফর আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান, স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল কর্মকর্তা ছোটন হোসেন, মন্ত্রীর পার্সোনাল রিলেশন কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরী এবং মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ইস্তেখার চৌধুরী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।