ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইন আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনটি নিয়ে আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা শেষে দ্রুত আইনটি সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যেই আইনটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
গুম প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন আইনে গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে আইনটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।
এ সময় ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ই-জুডিশিয়ারি চালুর উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। তবে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মক্কা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, বাংলাদেশও নিজেদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। কোনো দেশের নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আইন প্রণয়ন ও বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হবে।