রিজভীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলল জামায়াত
ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ওই বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি রিজভীর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার আগেই একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় দলটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া অনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
জুবায়ের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা জানতে চেয়েছেন। তার মতে, একইভাবে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা দুঃখজনক। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, নৈরাজ্য ও জনসম্পদ ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেন জুবায়ের। তিনি বলেন, কোনো স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে সেটির সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তার ভাষ্য, কোনো ঘটনার তদন্তের পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানানো মূল ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না।
জুবায়ের আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে কোনো অপরাধের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের নাম জড়িয়ে দেওয়া সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আরও সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশা করেন।
বিবৃতিতে তিনি রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
তিনি আরও আহ্বান জানান, অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।
রিজভীর বক্তব্যে কী ছিল
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রিজভী বলেন, মধ্য বাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় কারা জড়িত, তার উত্তর দিতে হবে।
একই বক্তব্যে একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করেন রিজভী। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতি প্রশ্ন তোলেন।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাতেও জামায়াতের আমিরকে প্রতিবাদ জানাতে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভীর ওই বক্তব্যের পরই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।
অন্যদিকে, রিজভীর বক্তব্যে যেসব অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসবে।
এদিকে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।