মনির হোসেন, মোংলা
আ.লীগের আমলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়নে বিশাল এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত অনেকটাই তৎপর ছিল। মোংলা বন্দরে চীনা আধিপত্য ঠেকানোর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নিজেদের কৌশলগত শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের অঙ্গরাজ্যগুলোতে সহজে পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা নিয়ে মোংলা বন্দরে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী হয় দেশটি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সেই উন্নয়ন পরিকল্পনা বেশি দূর অগ্রসর হয়নি।
আ.লীগ সরকারের পতনের পর অন্তবর্তী সরকারের আমলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাণিজ্যিক এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা সফলতার মুখ দেখেনি।
জানা যায়, আ.লীগের আমলে ভারতীয় তৃতীয় এলওসি আওতায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ছয় হাজার ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় পণ্য নৌপথে এ বন্দরে এনে সড়কপথে দেশটির অন্য অঞ্চলে নেওয়ার জন্য অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানো। প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, সমুদ্র, নদী, সড়ক ও রেলপথ নেটওয়ার্ক তৈরি করার কথা ছিল। এজন্য দেশটি চার হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ঋণ দিতেও সম্মত হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক খাতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু সময়মতো ভারত ঋণ ছাড় করেনি।
চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেন। সফরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সাথে বৈঠক করেন। এছাড়াও চীনের সরকারি বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হয়। এসময় কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির আওতায় মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে ইকোনোমিক জোন করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের অক্টোবরে মোংলা ইকোনমিক জোনের প্রথম ধাপের কাজ শুরু করবে চীন। এটি সমাপ্ত হলে প্রথমে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরবর্তীতে ইকোনমিক জোনের পরিধি বাড়ানো হলে ৬০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চীন সরকারের সহায়তায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন দুটি জেটি নির্মাণ করা হবে। জেটি হলে বন্দরে বেশি সংখ্যক জাহাজ আগমনের পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বহুগুনে বাড়বে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা এবছরেই জেটি দুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।
বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট মোংলায় একটি জনসমাবেশে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঘোষনা করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোংলা নদীর ওপর ১০ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ করা হবে এবং মোংলা-খুলনা মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ করা হবে।। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীন বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। ভারতের ঋণে মোংলা বন্দরে আপাতত কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না।