আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
প্রতিদিনের তীব্র যানজটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা শহর। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের মূল সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ গাড়ির সারি। অফিসগামী চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো এখন এক অন্তহীন দৈনন্দিন সংগ্রামে রূপ নিয়েছে। সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি এই স্থবিরতা অর্থনীতি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যানজটের মূল কারণ আশাশুনি অঞ্চলগামী যাত্রীবাহী বাস ও খুলনাগামী চিংড়িবাহী ভারী ট্রাক। বর্তমানে আশাশুনিগামী বাসগুলো সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে নিউমার্কেট সড়ক হয়ে শহরের বিভিন্ন জনবহুল মোড় ঘুরে চলাচল করে। শহরের অপ্রশস্ত সড়কগুলোতে এসব ভারী ও যাত্রীবাহী যান প্রবেশের কারণে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে।
অন্যদিকে, আশাশুনি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদিত হয়। কিন্তু বিকল্প সংযোগ সড়ক না থাকায় খুলনাগামী চিংড়িবাহী মালবাহী গাড়িগুলোকে শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় পরিবহন বিলম্বিত হচ্ছে এবং রফতানিযোগ্য চিংড়ির গুণমান নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এই সংকট নিরসনে সাতক্ষীরা সদরের বিনেরপোতা থেকে বেতনা নদীর তীর ও মাছখোলা বাজার হয়ে ধুলিহর ইউনিয়নের দোহাখোলা পর্যন্ত একটি বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাতক্ষীরার ২১ দফা নাগরিক দাবির মধ্যেও সাতক্ষীরা-বিনেরপোতা-আশাশুনি সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই বাইপাস সড়কটির নির্মাণ তো দূরের কথা, জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক কাজও এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি।
নগর ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটি বাস্তবায়িত হলে:
* আশাশুনিগামী বাস ও খুলনাগামী পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে আর শহরে প্রবেশ করতে হবে না, ফলে নিউমার্কেট ও টার্মিনাল এলাকার ট্রাফিক চাপ অর্ধেকের বেশি কমে আসবে।
* চিংড়িবাহী যানবাহন দ্রুত খুলনা ও মোংলা বন্দরে পৌঁছাতে পারবে, যা জেলার সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি রফতানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে।
* বেতনা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ টেকসইভাবে সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে এবং শহরবাসী একটি দৃষ্টিনন্দন ‘রিভারভিউ রোড’ পাবে।
সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক, যানজটমুক্ত ও ব্যবসাবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ঝুলে থাকা বিনেরপোতা-আশাশুনি বাইপাস সড়ক প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জেলাবাসী।