বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারে দুই নেতার প্রত্যয়
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক বৈঠকের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, আলোচনায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সুবিধা ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহের কথা বৈঠকে উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই নেতা।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তির বিষয়টিও উঠে আসে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আগামী দিনে সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবেই তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর পরিসরে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে দুই দেশের নেতৃত্ব আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে নেতাদের প্রত্যয়ের কথা জানানো হয়। পারস্পরিক স্বার্থ, অভিন্ন অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়েও তারা নিজেদের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
সূত্র: বাসস