ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমাতে ব্যাপকভাবে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৮৫টি এইচবিবি (ইট বিছানো) ও সোলিং সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা। এতে প্রায় দুই লাখ মানুষের চলাচল আরও সহজ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। তিনি ২০২৬ সালের ৩ মার্চ সালথায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ সমস্যা ও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত সড়কগুলোকে গুরুত্ব দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সালথা উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন রয়েছে। এগুলো হলো—রামকান্তপুর, যদুনন্দী, গট্টি, ভাওয়াল, আটঘর, মাঝারদিয়া, বল্লভদী ও সোনাপুর। এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা, ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে দুর্ভোগে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে কাদাপানি জমে যোগাযোগ প্রায় অচল হয়ে পড়ত। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নেওয়া এবং অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেত। অনেক সময় সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো।
সম্প্রতি ২৮৫টি সড়কে এইচবিবি ও সোলিং কাজ শেষ হওয়ায় সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। গ্রামের সঙ্গে হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কৃষকরা তুলনামূলক কম সময় ও খরচে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও আগের চেয়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথও সহজ হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি ভালো রাস্তা শুধু মানুষের চলাচলের সুবিধাই বাড়ায় না; এর সঙ্গে এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নও জড়িত। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বাড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, মানুষের জীবনকে সহজ করা এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের উন্নয়ন চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
প্রশাসনের উদ্যোগ, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার সমন্বয়ে সালথার গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। ২৮৫টি সড়কের উন্নয়ন শুধু মানুষের চলাচল সহজ করেনি, বরং উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।