বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন গুম আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ব্যাপকমাত্রায় সংঘটিত ও পদ্ধতিগত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন গুম আইন দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন। এর মাধ্যমে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব গুম ব্যাপকভাবে এবং পরিকল্পিত বা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়েছে, সেসব ঘটনার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে থাকা গুমসংক্রান্ত মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে কোন মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং কোনগুলো সাধারণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। যেসব ঘটনা ব্যাপকমাত্রায় বিস্তৃত বা পদ্ধতিগত গুমের আওতায় পড়ে না, সেগুলো ট্রাইব্যুনাল থেকে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে স্থানান্তর করা হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের মামলাগুলো নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে মামলাগুলোর প্রকৃতি ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ আদালতে বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, যেসব আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব সম্পদ কী প্রক্রিয়ায় জব্দ ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের সুযোগ নিয়েও আইনে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শেখ হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যেসব আসামি রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করেননি, তাদের আর আপিল করার সুযোগ নেই।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে তা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিল করার আইনগত সুযোগ থাকে না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে একদিকে যেমন গুরুতর অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে মামলার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে বিচার সম্পন্ন করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
গুমের অভিযোগ নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর এসব অভিযোগের বিচার কীভাবে এগিয়ে যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের আগ্রহ রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, গুমের সব অভিযোগ একই আদালতে বিচার করা হবে না; বরং ঘটনার ব্যাপকতা, পদ্ধতিগত চরিত্র ও অপরাধের ধরন বিবেচনা করে বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাজেয়াপ্ত সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়াও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে পর্যালোচনা শেষ হলে দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও জব্দ করার কার্যক্রম কোন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।