সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি ও ইমতিয়াজ বর্ষণ
নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এ জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি ও অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় কাজ করছেন পরীমণি। এর আগে এই নির্মাতার ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে এবারই প্রথম বড় পর্দার বাইরে সেলিমের পরিচালনায় কোনো ওয়েব ফিল্মে দেখা যাবে তাকে।
ওয়েব ফিল্মটির শুটিং ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকার একটি শুটিংবাড়িতে ‘সেপারেশন’-এর দৃশ্যধারণ শুরু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার চ্যানেল আই ভবনেও এর শুটিং হয়েছে। নির্মাতা জানিয়েছেন, আরও কয়েক দিন কাজ করলেই ওয়েব ফিল্মটির পুরো শুটিং শেষ হয়ে যাবে।
‘সেপারেশন’-এর গল্প গড়ে উঠেছে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, আবেগ, দূরত্ব এবং সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে। গল্পে পরীমণি ও ইমতিয়াজ বর্ষণকে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে। পরীমণি অভিনয় করছেন একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকের ভূমিকায়। অন্যদিকে তার বিপরীতে ইমতিয়াজ বর্ষণকে দেখা যাবে একজন অধ্যাপকের চরিত্রে।
চরিত্র ও গল্পের ধরন বিবেচনায় ‘সেপারেশন’ পরীমণির অভিনয়জীবনে ভিন্ন ধরনের একটি কাজ হতে যাচ্ছে। নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমও পরীমণির চরিত্রটিকে বেশ চ্যালেঞ্জিং হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, চরিত্রটির মাধ্যমে অভিনেত্রীকে নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
পরীমণির অভিনয় প্রসঙ্গে গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, চরিত্রটি তার জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত হয়েছেন। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীমণি চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
অন্যদিকে ‘সেপারেশন’ ইমতিয়াজ বর্ষণের জন্যও বিশেষ একটি কাজ। কারণ এই ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে প্রথমবার গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় অভিনয় করছেন তিনি। নির্মাতার কাজের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত বর্ষণ জানিয়েছেন, কৈশোর থেকেই সেলিমের নির্মাণকাজ দেখে আসছেন তিনি। তাই তার পরিচালনায় অভিনয় করার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই।
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, নির্মাতা হিসেবে সেলিমের কাজ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। কৈশোর থেকেই তার অসাধারণ নির্মাণগুলো দেখে আসছেন। অভিনয়ে আসার পর থেকেই একদিন তার পরিচালনায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল। ‘সেপারেশন’-এর মাধ্যমে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্ষণের অভিনয় নিয়েও সন্তুষ্ট নির্মাতা। গিয়াসউদ্দিন সেলিম তাকে একজন দারুণ অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্মাতার প্রত্যাশা, গল্পের অধ্যাপক চরিত্রে বর্ষণ দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন।
‘সেপারেশন’ ওয়েব ফিল্মটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬০ মিনিট। এটি মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে। তবে এখন পর্যন্ত এর মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। শুটিং শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
পরীমণির জন্যও ‘সেপারেশন’ গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বড় পর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাজেও তাকে দেখা যাচ্ছে। এবার গিয়াসউদ্দিন সেলিমের মতো আলোচিত নির্মাতার সঙ্গে প্রথম ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন তিনি। ফলে নতুন এই কাজ ঘিরে দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় পরীমণির অভিনয় দর্শকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে একই নির্মাতার ‘গুণিন’ সিনেমাতেও কাজ করেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘সেপারেশন’-এ আবারও তাদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগের দুই সিনেমার তুলনায় এবারের কাজের ধরন আলাদা। কারণ এবার সিনেমা নয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত হচ্ছে ওয়েব ফিল্ম।
দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আবেগের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি ও ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটিই গল্পের অন্যতম মূল আকর্ষণ। শুটিং শেষ হওয়ার পর পোস্টপ্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করে ওয়েব ফিল্মটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে মুক্তির তারিখ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে।
‘সেপারেশন’-এর মাধ্যমে একদিকে যেমন গিয়াসউদ্দিন সেলিম ও পরীমণির সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, অন্যদিকে প্রথমবার এই নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। তিনজনের এই নতুন কাজটি ওটিটিতে দর্শকদের সামনে কেমন সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।