1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
জামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে
Monday, 21 September 2026, 08:34 pm
Headline :
জামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে আদালতে অপ্রতিম হত্যার ৪ আসামির মধ্যে ৩ জনের স্বীকারোক্তি অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতায় চার অগ্রাধিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একনেকে অনুমোদন পেল রাজধানীর তিন মেট্রোরেল প্রকল্প রিজভী: ভারতের হাতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘সুইচ’, যেকোনো সময় সরবরাহ বন্ধের শঙ্কা হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি শিল্প-কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে

  • Update Time : Monday, 21 September, 2026, 08:23 pm
  • 4 Time View
জামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে
জামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে




জামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবেজামায়াতের দাবি, সাইবার সুরক্ষা আইন বহাল রেখে সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ বহাল রেখে এর সংশোধিত খসড়া বাতিল করতে হবে। তার দাবি, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ স্পষ্ট নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর হয়রানি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্প্রচার বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের বয়স সাত মাস এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের বয়স চার-পাঁচ মাস। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন কী পরিবর্তন ঘটেছে, যার কারণে আইনটি আবার সংশোধনের প্রয়োজন হচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ নামে পাস হয়েছে। তার ভাষ্য, সরকার এখন আবার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এ উদ্যোগের পেছনে সরকারের ‘হীন উদ্দেশ্য’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং সংশোধনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের মধ্যে অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের পাশাপাশি গণভোটের রায়ও উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হতে পারেন। তার অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক মত দমন এবং সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণের তথ্য যাতে প্রকাশ না পায়, সে উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের দাবি, একটি নির্বাচিত সরকার কীভাবে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে, বিএনপি সরকারের কার্যক্রমে তার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। তিনি গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি ব্যবহার করে সরকার জনমতের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে। তার ভাষায়, একের পর এক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে করতে একসময় জনগণও সরকারকে বাতিল করে দিতে পারে। তবে তার আগে সরকারের প্রতি জনরায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু বলেন, দেশের আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মামলা ও আটকের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা বা বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কিংবা মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

সাইবার সুরক্ষা আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হলে গণমাধ্যম ও জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, সরকার সংবিধানের বাইরে যেতে চায় না বললেও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, আইনটির মাধ্যমে জনগণের বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তা দমনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান। লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া টিমের সদস্য মো. জাহিদুর রহমান সেমিনারটি পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক জনতার সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, এনটিভির হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল এবং ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ অনেকে।

সেমিনারে বক্তারা সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তাদের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইন প্রয়োগে সমতার বিষয়। একই সঙ্গে সংশোধিত খসড়া বাতিল করে বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category