ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
শনিবার রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে যারা গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কোনো ক্ষমার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু রয়েছে এবং প্রয়োজনে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদেরও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিষয়ে বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারের অবস্থান হলো—অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা।
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের প্রতি তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনি প্রক্রিয়ায় আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে।
সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে কাজ করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে। তবে কেউ কেউ সেই প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লংমার্চের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চায়। ভবিষ্যতে দেশে কর্তৃত্ববাদী বা স্বৈরাচারী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁর দাবি, বাংলাদেশের প্রতিবেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। জনগণের ওপর চাপ কমাতে সরকার শুরুতে কিছু সময় দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি বিবেচনা করে পরে সীমিত পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গালফ ওয়ারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কিছুটা দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও দাম কমানো হবে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমাবেশে সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, অভিযুক্তদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা এবং জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।