মেধার মূল্যায়নে দলীয় প্রভাব নয়, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতীতে দলীয় প্রভাবের অভিযোগের কথা তুলে ধরে রাজপথে সহিংসতার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন পাননি। মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। রাজপথে আর কোনো ধরনের বুলেট নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—দেশের নানা ক্রান্তিকালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের ইতিহাস রয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধারণ করে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের জন্য নিয়মিত জ্ঞানচর্চা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা একাডেমিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেদের দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষাজীবনে সময়ের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের মেধা চর্চার পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রেখে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তার বক্তব্যে দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশে মেধার মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সহিংসতা ও সংঘাতের পরিবর্তে জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতাকে সামনে রেখে দেশ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুষ্ঠানে উঠে আসে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বক্তারা পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মেধার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরামর্শও দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং সহিংসতার পরিবর্তে জ্ঞান ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তাঁর আহ্বান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঐতিহ্য ও দায়িত্ববোধ ধারণ করে মেধাভিত্তিক সমাজ ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।