বিনোদন প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ১২ বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবার পরিণতির পথে। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্রের সঙ্গে মালদ্বীপে বাগদান সম্পন্ন করেছেন কণ্ঠশিল্পী হিমাদ্রিতা পর্ণা। গত ২৮ আগস্ট মালদ্বীপের একটি রিসোর্টে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বাগদান অনুষ্ঠিত হয়।
হিমাদ্রিতার হবু স্বামী রাজীব চন্দ্র পেশায় ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও সিঙ্গাপুরে করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
‘কালের কণ্ঠ’-এর সঙ্গে আলাপকালে বাগদানের খবর নিশ্চিত করেছেন হিমাদ্রিতা। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই দেশের বাইরে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই পরিকল্পনা থেকেই সিঙ্গাপুরে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। দেশের বাইরে বিয়ে হবে বলে আশীর্বাদের আয়োজনও বিদেশে করার চিন্তা থেকেই মালদ্বীপে বাগদানের আয়োজন করা হয়।
বাগদানের অনুষ্ঠানে রাজীব হিমাদ্রিতাকে হীরার আংটি পরিয়ে দেন। অন্যদিকে গায়িকাও হবু স্বামীর হাতে পরিয়ে দেন স্বর্ণের আংটি।
জানা গেছে, রাজীবের সঙ্গে হিমাদ্রিতার পরিচয় প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের। পরিচয়ের পর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে শুরুতে এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিল না হিমাদ্রিতার পরিবার।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে হিমাদ্রিতা জানান, ২০১১-১২ সালের দিকে রাজীবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন দুজনই বেশ ছোট ছিলেন। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলেও পরিবার থেকে শুরুতে সম্মতি পাওয়া যায়নি। রাজীবও পরিবারকে রাজি করানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত বছর হিমাদ্রিতার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়। এরপরই তারা একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর বিয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন দুজন। আগামী অক্টোবরের দুর্গাপূজার সময় সিঙ্গাপুরে তাদের বিয়ের আয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন হিমাদ্রিতা। বিয়ের আগে সেখানে একটি কনসার্টেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। বিয়ের পর দেশে ফিরে স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে আলাদা আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপ থেকে দেশে ফেরার কথা হিমাদ্রিতার। কিছুদিন দেশে থাকার পর অক্টোবরের শুরুতে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
সংগীত পরিবারের সন্তান হিমাদ্রিতা ছোটবেলা থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা ও দাদা তবলা বাজাতেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাকে সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে গানের জগতে তার হাতেখড়ি হয়। পরবর্তী সময়ে কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে সংগীতের তালিম নেন তিনি।
২০১৬ সালে ‘প্রিয়া রে’ শিরোনামের মৌলিক গান প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রোতাদের সামনে আসেন হিমাদ্রিতা। পরবর্তী সময়ে নতুন গান প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে কিছুদিন সংগীত থেকে দূরে ছিলেন। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন শুরু করেন।
গানের পাশাপাশি উপস্থাপনাতেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন হিমাদ্রিতা পর্ণা। দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর এবার বাগদানের মাধ্যমে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন এই কণ্ঠশিল্পী।