ব্যক্তিজীবন আড়ালে রেখে শুটিং, ওটিটিতে নতুন যাত্রা পরিণীতি চোপড়ার
বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার অভিনয়জীবনে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন ‘ইশকজাদে’, ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’, ‘কিল দিল’, ‘গোলমাল এগেইন’, ‘কেশরি’, ‘উচাই’, ‘সায়না’ ও ‘মিশন রানীগঞ্জ’-এর মতো আলোচিত সিনেমের এই অভিনেত্রী। তবে এবার বড় পর্দার সিনেমা দিয়ে নয়, ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি।
নেটফ্লিক্সের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ সিরিজের মধ্য দিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিষেক হতে যাচ্ছে পরিণীতির। দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করলেও এর আগে ওয়েব সিরিজে দেখা যায়নি তাকে। ফলে নতুন এই কাজটি অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিজটির ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের নতুন কাজ এবং ব্যক্তিজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা জানিয়েছেন পরিণীতি। সেখানে তিনি জানান, সিরিজটির শুটিং শুরুর পর তিনি জানতে পারেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা।
অভিনেত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তার নতুন ওয়েব সিরিজকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। কারণ গর্ভাবস্থার সময়েও তিনি পেশাগত কাজ চালিয়ে গেছেন এবং শুটিংয়ের বিষয়টি ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকাশ্যে আনেননি।
পরিণীতি জানান, পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে তিনি তখন নিজের গর্ভাবস্থার খবর প্রকাশ করতে চাননি। তার লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিগত জীবন যেন কোনোভাবেই পেশাগত দায়িত্বকে প্রভাবিত না করে। তাই শুটিং চলাকালে বিষয়টি যতটা সম্ভব গোপন রেখেছিলেন তিনি।
বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুটিংয়ের সময় নির্মাতাদের বিষয়টি জানান অভিনেত্রী। ওই সময় শুটিংয়ের পরিবেশ ও কাজের ধরন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়। এরপরও প্রজেক্টের কাজ চালিয়ে যান তিনি।
পরিণীতির এই অভিজ্ঞতা ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ সিরিজটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিশেষ স্মৃতি তৈরি করেছে। কারণ সিরিজটির শুটিংয়ের সময়ই তিনি মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
অভিনেত্রীর স্বামী রাঘব চাড্ডা ও পরিণীতির সন্তান নীরের বয়স এখন প্রায় ১০ মাস বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সন্তানের জন্মের পর খুব বেশি সময় না যেতেই আবার অভিনয়ে ফিরেছেন পরিণীতি। তার এই প্রত্যাবর্তন ভক্তদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে পরিণীতি নিজের ছেলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার সময়ই সিরিজটির শুটিংয়ের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, মা হওয়ার আগের সময়টিও তার অভিনয়জীবনের নতুন কাজটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।
এ কারণে পরিণীতির কাছে ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ শুধু একটি ওয়েব সিরিজ নয়, ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা কাজ। অভিনয়জীবনের নতুন মাধ্যমে পা রাখার পাশাপাশি মাতৃত্বের সময়েও পেশাগত দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এই কাজকে তার জন্য আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
বলিউডের অনেক তারকাই গত কয়েক বছরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করে নতুন দর্শক তৈরি করেছেন। সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ এখন অভিনেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। গল্পের বৈচিত্র্য, দীর্ঘ ফরম্যাট এবং চরিত্রের গভীরতার কারণে প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র তারকারাও ওটিটিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
পরিণীতির ক্ষেত্রেও সেই ধারায় এবার যুক্ত হলো নতুন নাম। দীর্ঘদিন বড় পর্দায় কাজ করলেও ওটিটির সঙ্গে তার সরাসরি পথচলা শুরু হচ্ছে ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর মাধ্যমে। ফলে সিরিজটি মুক্তির পর তার অভিনয়ের নতুন দিক দর্শকদের সামনে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই নিজের মতো করে চলেছেন পরিণীতি। নতুন কাজের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত বিষয়কে সামনে না এনে পেশাগত পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। গর্ভাবস্থার খবর গোপন রাখার সিদ্ধান্তও তার সেই ব্যক্তিগত পছন্দেরই প্রতিফলন বলে তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।
ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, কাজের প্রতি তার পেশাদার মনোভাব কতটা দৃঢ় ছিল। শুটিংয়ের সময় জীবনের বড় একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও তিনি প্রজেক্টটির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
এদিকে ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ সিরিজের মাধ্যমে পরিণীতির ওটিটি অভিষেককে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সিনেমায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের পর ওয়েব সিরিজে তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে ভক্তদের।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর পরিণীতি চোপড়ার প্রত্যাবর্তন হচ্ছে দুটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে মাতৃত্বের পর আবার অভিনয়ে ফেরা, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করা। ব্যক্তিজীবন আড়ালে রেখে পেশাগত দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া এবং নতুন মাধ্যমে যাত্রা শুরুর এই অভিজ্ঞতা পরিণীতির ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।