কুমিল্লায় ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার
এ.কে পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি মোটরসাইকেল ও ছিনতাই করা কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ। তিনি জানান, নগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিবি পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও অপরাধপ্রবণ স্থানে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পৃথকভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন—এমন অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি মোটরসাইকেল এবং ছিনতাই করা কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের গতিবিধি ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও অন্যান্য আলামতও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনসহ অন্যান্য অভিযোগে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় আগের মামলা রয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের পূর্বের মামলার তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে ছিনতাই, মাদক সেবন ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিভিন্ন মোড় এবং অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধীদের সহযোগী ও তাদের ব্যবহৃত যানবাহন, অস্ত্র এবং অন্যান্য উপকরণের উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বরও কুমিল্লা নগরীতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরপর দুই দিনের অভিযানে নগরীতে ছিনতাইবিরোধী তৎপরতা জোরদারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য, নগরীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পূর্বে মামলা থাকা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবারের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পৃথকভাবে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী মামলার আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা নগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণেও পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ বলছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ছিনতাই, মাদক সেবন ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার কাজও চলছে।