1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
আবেদনের তিন বছর পরও ব্রিকসের সদস্যপদ পায়নি পাকিস্তান, নেপথ্যে ভারতের আপত্তি?৩ বছর পরও ব্রিকসের সদস্য নয় পাকিস্তান, কেন আটকে আছে আবেদন?
Saturday, 12 September 2026, 05:10 pm
Headline :
ফ্যাসিবাদের সময়ে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী নয়: শফিকুর রহমান ইরানের পাশে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি অন্য মামলা না থাকলে সাজা শেষে খালাস পাবেন বিডিআর সদস্যরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: পানিসম্পদ মন্ত্রী শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে: আইনমন্ত্রী পলিথিন-প্লাস্টিক বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে কর আদায় নয়: অর্থমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর

আবেদনের তিন বছর পরও ব্রিকসের সদস্যপদ পায়নি পাকিস্তান, নেপথ্যে ভারতের আপত্তি?

  • Update Time : Saturday, 12 September, 2026, 01:03 pm
  • 6 Time View




আবেদনের তিন বছর পরও ব্রিকসের সদস্যপদ পায়নি পাকিস্তান, নেপথ্যে ভারতের আপত্তি?

 

ভারতে শুরু হতে যাচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোটটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্মেলনে অংশ নিতে এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

 

এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের ব্রিকস সদস্যপদের আবেদন। ইসলামাবাদ প্রায় তিন বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত সদস্য হতে পারেনি। পাকিস্তানের আবেদন আটকে থাকার পেছনে ভারতের আপত্তি বড় কারণ বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

 

২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল, ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য তারা আবেদন করেছে। সে সময় ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোটে যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে চায় তারা।

 

ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন—এই চার দেশকে নিয়ে প্রথমে গড়ে ওঠে জোটটি। পরে ২০০৯ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকসের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হওয়ার পর ‘ব্রিকস’ নামটি আরও বিস্তৃত রূপ পায়।

 

পরবর্তী সময়ে জোটটির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইরান ব্রিকসে যুক্ত হয়। ২০২৫ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়াও জোটটির সদস্য হিসেবে কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। ফলে বর্তমানে ব্রিকসের পরিধি আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত।

 

এত বড় একটি জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও পাকিস্তানের আবেদন এখনো অনুমোদন পায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কেন ইসলামাবাদ সদস্যপদ পাচ্ছে না?

 

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও ইসলামাবাদকে সমর্থন করেছে বেইজিং। একইভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যেও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বেড়েছে। তারপরও ব্রিকসের সদস্যপদের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

 

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এর অন্যতম কারণ হতে পারে ভারতের অবস্থান। ব্রিকসের মূল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিরোধে জর্জরিত। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের সদস্যপদ নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

ব্রিকসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন কোনো দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান সদস্যদের সম্মতির প্রয়োজন হয়। ফলে কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র আপত্তি জানালে নতুন দেশের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে।

 

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের ব্রিকস আবেদন নিয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি। তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, নয়াদিল্লির আপত্তিই পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা অবস্থান জানানো হয়নি।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে ইসলামাবাদ বিভিন্ন বিকল্প অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে পাকিস্তান সম্প্রতি ৫৮ কোটি ডলারের ‘স্টেক’ কিনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পাকিস্তানের জন্য নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদ পেলে জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশা করছে ইসলামাবাদ।

 

বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব বৃদ্ধির আরেকটি দিক হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের প্রসার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে ব্রিকস দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এসব দেশ থেকে ভারতের আমদানি বেড়েছে ১৩১ দশমিক ৮ শতাংশ।

 

এদিকে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। জোটের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যু সম্মেলনে গুরুত্ব পেতে পারে।

 

তবে পাকিস্তানের জন্য প্রশ্নটি এখনো রয়ে গেছে—তিন বছর আগে আবেদন করার পরও তারা কবে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হতে পারবে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক এবং ব্রিকসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category