নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান রিজভীর
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে পারলে সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন আরও কার্যকর হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। শিক্ষা নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংগঠনটির নেতারা কোনোভাবেই অযোগ্য নন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও নারীরা সমানভাবে দক্ষতা প্রদর্শন করতে সক্ষম। দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা শুধু পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারীরাও রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের কাছে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে নারীদের কল্যাণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে মানুষকে জানাতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটি নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি নারীদের আর্থিক ও সামাজিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের পরিবার ও সমাজে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিজভী আরও বলেন, দেশের সব মানুষ সরাসরি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই তাদের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে কারণে জনগণকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, অতীতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে জনবান্ধব ও নারীবান্ধব কর্মসূচিগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। র্যালিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
বক্তব্যে রিজভী নারীদের অধিকার, শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলে পরিবার ও রাষ্ট্র—উভয় ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নারীর উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দল, সরকার, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।