ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নদী থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব এখন মাত্র প্রায় ৩০০ মিটার। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পদ্মা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। এ সময় শিক্ষার্থীরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। নদীভাঙনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শয়তান খালী ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মা নদীতে ভাঙন চলছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এতে প্রতিবছর নদীর পাড়ের বসতবাড়ি, দোকানপাট, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এলাকার অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়েছে। এখন বিদ্যালয়টিও নদীভাঙনের সরাসরি হুমকিতে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি তাদের শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম আশ্রয়স্থল। বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। তাই বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী শিকদার বলেন, নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে জিও ব্যাগসহ নানা অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে দিন দিন বিদ্যালয়ের দিকে পদ্মা নদী এগিয়ে আসছে। বর্তমানে নদীটি বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনের আতঙ্কে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। শুধু বিদ্যালয় নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিও ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে বিদ্যালয়সহ ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সর্দার বলেন, জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও পিয়াজখালী বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় শুধু সাময়িক প্রতিরোধ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি নদীশাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী দিনে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বলেন, নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়েছে। এখন সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও হুমকির মুখে। বিদ্যালয়টি রক্ষা করা না গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি ভবন হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও একটি এলাকার শিক্ষার পরিবেশ। তাই দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের মাধ্যমে জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা