প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কাছে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই দুটি দাবি পূরণ হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন কোনো দেশের চাপ কিংবা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের স্বার্থ ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার দাবি, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
র্যাবের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, খুন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত র্যাবের কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপি সরকার বহন করতে পারে না। জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী এসআরবি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নতুন বাহিনী জনগণের পাশে থেকে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মতামত বা পরামর্শ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর ও নানা সংকটে থাকা একটি দেশকে সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। তবে বর্তমান সময়ে তারা সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে রোড মার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তেল ও গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, রোড মার্চের মাধ্যমে যদি এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো, তাহলে বিএনপিই সবার আগে রোড মার্চের আয়োজন করত। তার মতে, জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো যেসব সমস্যা আলোচনায় বসে সমাধান করা যায়, সেগুলোকে অযথা বড় করে তোলা উচিত নয়। এতে সরকারকে বিব্রত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছেন। তার বক্তব্যে তিনি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখতে পান বলেও মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা যেভাবে কথা বলেন, রুমিন ফারহানার বক্তব্যেও একই ধরনের ভাষা পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তিনি ক্ষোভ থেকে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তবে এ বিষয়ে রুমিন ফারহানার কোনো প্রতিক্রিয়া সংবাদে পাওয়া যায়নি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, দলের সব নেতাকর্মীকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে কিংবা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খাঁন দেশের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। বিশেষ করে ভারত থেকে হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফেরত আনার বিষয়টিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার ফলাফলের ওপরই ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।