ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে শুরু হয়েছে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।
দেশব্যাপী চলমান তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে চরভদ্রাসনেও স্থানীয়ভাবে এ অভিযান নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী কার্যক্রমে যুক্ত হন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশ, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনায় পানি জমে থাকার সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন সামগ্রীতে পানি জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত পরিষ্কার করার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, ফুলের টব ও অন্যান্য সামগ্রীতে জমে থাকা পানি অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষে চরভদ্রাসনের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং সেগুলো ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সামাজিক দায়িত্ব। প্রশাসনের একার পক্ষে এ রোগ চরভদ্রাসনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুনিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত খেয়াল করতে হবে।”
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। নিয়মিতভাবে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্থানীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্র ও আবর্জনা যথাযথভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে চরভদ্রাসনে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও চলমান কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।