ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনে মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রার্থীর প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন থাকবে।
ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধানের পদটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক দায়িত্ব। এই অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম, সহযোগিতা ও নীতিগত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে পদটির গুরুত্ব রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান ও সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে এই পদে এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। গত সপ্তাহে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ওই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার দাবি, ডব্লিউএইচওর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য যে ধরনের যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সায়মা ওয়াজেদের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট ছিল না।
সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ শুরু থেকেই দুঃখজনক ছিল। ওই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য তার বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ নিয়ে এখন যেসব বিষয় সামনে আসছে, সেগুলো তার কাছে বিস্ময়কর নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যথাযথ ছিল না এবং বিভিন্ন প্রভাবের মাধ্যমে ভোট আদায়ের বিষয়ও সেখানে ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের প্রভাব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা উচিত নয়। তার মতে, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এ ধরনের পদে প্রার্থী নির্বাচন করা প্রয়োজন।
হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত দক্ষতা, যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক পরিবার বা ক্ষমতাসীন পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কাউকে এমন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তা প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতার ওপরও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বা পারিবারিক যোগাযোগের পরিবর্তে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথাও উঠে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে আগামী জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানালেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশের এই অবস্থান দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনার বিষয় হতে পারে। তবে নির্বাচনে অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর অবস্থান কী হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী দায়িত্ব পাবেন, তা ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল স্বাস্থ্যনীতি, রোগ প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগের পর এখন নতুন আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ মালদ্বীপের প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের কথা জানাল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ফলে আগামী জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর অবস্থান, প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং পারস্পরিক সমর্থনের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সমর্থন মালদ্বীপের প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে ভোটের মাধ্যমে।