চরভদ্রাসন-মইনট ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ, বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর-মইনট নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পন্টুন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে সংসদ সদস্য এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চরভদ্রাসন (গোপালপুর)-মইনট ফেরি সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ বছর ধরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা প্রত্যাশা তৈরি করা হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ফেরি সার্ভিসটি চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত ছিল।
মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এবার বিষয়টি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘাটটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ কাজের অংশ হিসেবে পন্টুন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। অবশেষে আমার প্রচেষ্টায় এই ঘাট আবার চালু হচ্ছে। পন্টুন নির্মাণসহ এ কাজের জন্য ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়ে গেছে।’
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, গোপালপুর-মইনট নৌপথে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা। ফেরি সার্ভিসটি চালু হলে চরভদ্রাসনসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে নদীপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা এর সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ফেরি সার্ভিস চালু হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, এর মাধ্যমে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফেরি সার্ভিসটি চালু হলে চরভদ্রাসন ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ উদ্যোগের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে প্রত্যাশা নিয়ে স্থানীয় মানুষ অপেক্ষা করছেন, ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। এখন বরাদ্দকৃত অর্থে পন্টুনসহ প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে ফেরি চলাচল শুরু করার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।