বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষাদানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে ধারণা দেওয়া হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসতে হবে, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করে শুধু সনদ অর্জন করে। কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার কথাও বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তার মতে, প্রযুক্তি ও প্রকৌশলভিত্তিক শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিবর্তিত বিশ্বের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার বিষয়বস্তু, পদ্ধতি ও মান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী যেন বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তার অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে, সে ধরনের শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল আসন্ন সমাবর্তন নিয়ে প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির আশ্বাস পাওয়ায় সমাবর্তন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদার কারণে উচ্চশিক্ষায় দক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
তার আহ্বানের মূল বিষয় হলো—শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো, যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা শেষে দেশের অর্থনীতি ও কর্মক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পায়।