জাতীয় সংসদে সংবিধান ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ–এর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আন্দালিভ রহমান তার বক্তব্যে সংবিধান ‘ছুঁড়ে ফেলা’র পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। এ সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও তিনি সমালোচনা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অতীতে জনতার সরকারের প্রেক্ষাপটে সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। সেই বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান মন্তব্যের তুলনা টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সমর্থনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে কি না।
সংবিধান নিয়ে আন্দালিভ রহমানের অবস্থানকে ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দিয়ে হাসনাত বলেন, সংবিধানের কিছু অংশ গ্রহণ এবং কিছু অংশ বর্জন—এ ধরনের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, “আমি কখনও সাংবিধানিক, কখনও অসাংবিধানিক—এটা চলতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, যদি সংবিধানকে সম্পূর্ণভাবে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ৬ আগস্টের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট শুনানি আদৌ হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট রায়ের কপি প্রকাশের দাবিও জানান।
খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ছাত্র-জনতার সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতেই তিনি মুক্তি পান। তাঁর মতে, সংবিধানকে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে সেই মুক্তি সম্ভব হতো না।
সংবিধানের প্রয়োগ নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যেখান থেকে সুবিধা পাওয়া যায়, সেই অংশই মানা হয়”—এমন প্রবণতা রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যাচ্ছে।