এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্য লিটনের
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ত সূচির কারণে বছরের বড় একটি সময় মাঠেই কাটে ক্রিকেটারদের। তবে দেশের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসরে পদক জয়ের সুযোগ সবসময় আসে না। তাই জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। শুধু অংশগ্রহণ নয়, এবার সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ দলের জাপান যাত্রার আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এশিয়ান গেমস নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান লিটন। তিনি বলেন, এ ধরনের আসর নিয়মিত আসে না। ফলে দেশের হয়ে এশিয়ান গেমসে ভালো করার সুযোগকে বিশেষভাবে দেখছেন দলের ক্রিকেটাররা।
লিটন বলেন, প্রত্যাশা সবসময়ই থাকবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলেও এশিয়ান গেমসের মতো আসর বারবার আসে না। এ কারণে দেশের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এবং ভালো করার সুযোগ নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস রয়েছে।
বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল এর আগে এশিয়ান গেমসে সাফল্য পেয়েছে। ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে সোনার পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই আসরে টেস্ট খেলুড়ে কয়েকটি বড় দল তাদের শক্তিশালী স্কোয়াড পাঠায়নি। এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আলাদা। ভারত ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দল শক্তিশালী খেলোয়াড় নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
ফলে এবারের আসরে বাংলাদেশের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না লিটন। তার মতে, নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পারফর্ম করাই দলের প্রধান লক্ষ্য। ধাপে ধাপে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা এবং সোনার পদক জেতার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ খেলবে।
পুরুষ ক্রিকেটের এশিয়ান গেমসের প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশও সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে।
এশিয়ান গেমসের এই টুর্নামেন্টকে শুধু একটি পদকের লড়াই হিসেবে দেখছেন না লিটন। তার দৃষ্টিতে সামনে থাকা আরেকটি বড় লক্ষ্যেও এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেখানে পুরুষ ক্রিকেটে মাত্র ছয়টি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার প্রতিযোগিতাও হবে কঠিন।
অলিম্পিকে খেলার স্বপ্নের বিষয়ে লিটন বলেন, বিশ্বের যেকোনো ক্রিকেটারের মতো তিনিও অলিম্পিকে খেলতে চান। তবে এই মুহূর্তে দলের প্রধান মনোযোগ এশিয়ান গেমসে। সামনে যে ম্যাচ রয়েছে, সেটি ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তাদের। প্রথম লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলে পরের ধাপে জায়গা করে নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছানো।
বাংলাদেশ দলের জন্য এশিয়ান গেমসের এবারের অভিযান তাই একদিকে সোনার পদক জয়ের সুযোগ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর মঞ্চ। শক্তিশালী দলগুলোর উপস্থিতির কারণে প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিবেচনার বাইরে থেকে নিজেদের পারফরম্যান্স ও ম্যাচ পরিকল্পনাতেই মনোযোগ রাখতে চায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এশিয়ান গেমসে পুরুষ দলের সোনা জয়ের আগের ইতিহাস থাকলেও এবারের প্রতিযোগিতার বাস্তবতা ভিন্ন। ভারত ও পাকিস্তানের মতো দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করাই হবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দলের অধিনায়ক হিসেবে লিটনও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে জাপানে যাচ্ছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু অংশগ্রহণ বা একটি-দুটি ম্যাচ জেতাকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং ম্যাচ ধরে এগিয়ে গিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো এবং সোনার পদক জেতাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের আগে তাই দলের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতিটি ধাপ। লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি এই আসরকে সামনে রেখে ২০২৮ সালের অলিম্পিকের সম্ভাব্য পথও নজরে রাখছেন ক্রিকেটাররা।