1. dailymorningvoice@gmail.com : dailymorningvoice : ismail hossain
  2. jahid@gmail.com : jahid hasan : jahid hasan
  3. hafejjubayera@gmail.com : Jubayer Ahmad : Jubayer Ahmad
মোংলায় যৌথ অভিযানে ৭৮ ব্যারেল অবৈধ ভোজ্য তেল জব্দ
Saturday, 12 September 2026, 05:58 pm
Headline :
ফ্যাসিবাদের সময়ে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী নয়: শফিকুর রহমান ইরানের পাশে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি অন্য মামলা না থাকলে সাজা শেষে খালাস পাবেন বিডিআর সদস্যরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: পানিসম্পদ মন্ত্রী শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে: আইনমন্ত্রী পলিথিন-প্লাস্টিক বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে কর আদায় নয়: অর্থমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর

মোংলায় যৌথ অভিযানে ৭৮ ব্যারেল অবৈধ ভোজ্য তেল জব্দ

  • Update Time : Saturday, 12 September, 2026, 05:29 pm
  • 9 Time View




মোংলায় যৌথ অভিযানে ৭৮ ব্যারেল অবৈধ ভোজ্য তেল জব্দ

 

মনির হোসেন, মোংলা

 

বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৮ ব্যারেল অপরিশোধিত সয়াবিন তেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। জব্দ করা তেলের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ লিটার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে একটি গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজার এলাকার মেসার্স শোভা স্টোরের মালিক মো. সবুর তালুকদারের একটি গোডাউনে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল মজুত রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পরে গোডাউনে থাকা ৭৮ ব্যারেল তেল জব্দ করেন অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

 

অভিযান পরিচালনার সময় কোস্টগার্ডের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জব্দ করা তেলের বৈধতা ও মজুতের কারণ যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের সঙ্গে ভেজাল উপাদান মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রি করা হতো। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তেলগুলো কীভাবে গোডাউনে এসেছে, কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমীর নির্দেশনায় অবৈধভাবে মজুত করা তেল জব্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড পৌর শহরের ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা ৭৮ ব্যারেল তেল জব্দ করেছে।

 

ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, জব্দ করা তেল পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মামলার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে অভিযানের সময় গোডাউনের মালিক মো. সবুর তালুকদারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। জব্দ করা তেলের উৎস, মজুতের বৈধতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

জব্দ করা তেলের পরিমাণ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৭৮ ব্যারেলে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল রয়েছে। বাজারে ভোজ্য তেলের চাহিদা ও সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অবৈধভাবে তেল মজুত করে বাজার ব্যবস্থায় কোনো ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যপণ্যের অবৈধ মজুত, চোরাচালান এবং ভেজাল মিশিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগ ভোক্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে জব্দ করা তেলের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা করা হতে পারে।

 

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাজার এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এ ধরনের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো ব্যবসায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল মজুত করলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, মো. সবুর তালুকদারের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান হয়েছিল। এর আগে একবার র‌্যাবের হাতে তিনি আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ওই সময়ও তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছিল।

 

তবে আগের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান অভিযানে জব্দ করা তেলের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

 

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে জব্দ করা তেলের উৎস, পরিবহন, মজুত ও সম্ভাব্য বাজারজাতকরণের সঙ্গে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসতে পারে।

 

প্রশাসন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দ করা তেলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মোংলা পৌর শহরে অবৈধভাবে খাদ্যপণ্য মজুত, চোরাচালান ও ভেজাল পণ্য বাজারজাতের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
Please follow and like us:
Pin Share
More News Of This Category