সম্পত্তির বিরোধে বাবাকে মারধরের অভিযোগ, সদরপুর থানায় অভিযোগ
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শেখ খলিল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর দুই ছেলে শেখ কাউসার ও শেখ নিজাম মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে সদরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাবা।
শেখ খলিলের অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর দুই ছেলে কাউসার ও নিজাম কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদ ছাড়াই তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁরা দুই হাত ধরে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খলিল জানান, ঘটনার সময় তাঁর বড় ছেলে শেখ জাহাঙ্গীরের শাশুড়ি বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি বিষয়টি দেখে খলিলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে ওমানে অবস্থানরত তাঁর আরেক ছেলে ভিডিও কলে ঘটনা দেখতে পেয়ে হাটখোলার ফজল ব্যাপারীর ছেলে ইয়াকুবকে ফোন করে দ্রুত বাড়িতে পাঠান বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে শেখ খলিল আরও বলেন, তাঁর ছেলেরা বর্তমানে তাঁর নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। স্বাভাবিকভাবে জমি লিখে না দিলে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ খলিলের তিন ছেলে—জাহাঙ্গীর, কাউসার ও নিজাম এবং এক মেয়ে। প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে তাঁর বড় ছেলে জাহাঙ্গীর ওমানে যান। পরবর্তীতে কাউসার ও নিজামও সেখানে যান। প্রবাসে অবস্থানকালে তাঁরা গাড়ি কেনা, গ্যারেজ পরিচালনা ও ভিসা-সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শেখ খলিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইসব ব্যবসায় তাঁর ছেলেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ও দেনা পরিশোধের বিষয়েও পরিবারে চাপ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, ছেলেদের বিদেশে যাওয়ার আগেই তিনি জমিজমা কিনেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক ও আর্থিক নানা পরিস্থিতির কারণে ওই জমির কিছু অংশ বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করতে হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে ছেলেদের ব্যবসা ও দেনা-পাওনার কারণে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। খলিলের দাবি, বিভিন্ন দেনা পরিশোধ করতে তাঁকে জমি বিক্রি করতে হয়েছে এবং এখনো তাঁর ওপর ১০ লাখ টাকার বেশি দেনা রয়েছে।
এদিকে জমি বিক্রির একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। খলিলের ছেলেরা এক নারীকে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে হয়রানি করছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওই নারী অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, তাঁর সন্তান রয়েছে এবং এ ধরনের কোনো সম্পর্কের বিষয় সত্য নয়।
শেখ খলিল আরও অভিযোগ করেন, তাঁর দুই ছেলে তাঁকে মারধরের পাশাপাশি উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। এ কারণে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য তিনি পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শেখ কাউসার ও শেখ নিজাম তাঁদের বক্তব্য জানানোর জন্য প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বিষয়টির সঠিক সমাধানের অনুরোধ জানান। এ সময় তাঁদের পারিবারিক বিরোধ ও অন্য স্বজনদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য।
এ ঘটনায় প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শেখ নিজামের মামাশ্বশুর নতুন বাজারের শেখ তোতার ছেলে আজাহার প্রতিবেদককে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজুয়ান দীপুকে জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদক জানিয়েছেন।
তবে মারধর, হত্যাচেষ্টা, সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চাপ এবং হুমকির অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও আইনগত তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।