ব্রিকসের ‘ফ্যামিলি ফটো’তে মোদির দুই পাশে পুতিন-শি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জোটের নেতাদের আনুষ্ঠানিক ‘ফ্যামিলি ফটো’তে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থান। ছবিতে মোদির দুই পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রবিবার সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফাঁকে ১১ সদস্যের ব্রিকস জোটের নেতারা যৌথভাবে ছবিতে অংশ নেন।
নেতাদের এই অবস্থানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, ব্রিকসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই শক্তি রাশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান জোটটির অভ্যন্তরীণ গুরুত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। তবে শুধু আনুষ্ঠানিক ছবিই নয়, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও নেতারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
এর আগে ব্রিকস সদস্য দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত কমানোর আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। চীন, রাশিয়া, ইরান ও ভারতসহ জোটের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতিতে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়।
ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুদ্ধ ও উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘোষণাটি গ্রহণকে সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জোটের অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্রিকসের সদস্যরা সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কার্যকর ও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ব্রিকস। জোটের নেতারা মনে করেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগান বন্ধ করা এবং অপরাধী চক্রের আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
ব্রিকসের যৌথ অবস্থানে সংঘাত প্রতিরোধ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংলাপ ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করার ওপর জোর দেন নেতারা। আন্তর্জাতিক বিরোধে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়টিও তাদের ঘোষণায় গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া মাদক ও অস্ত্র পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সংগঠিত অপরাধের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধ এক দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকায় তথ্য বিনিময়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
নয়াদিল্লির সম্মেলনে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব বাড়ার প্রেক্ষাপটে সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো ইস্যুতে জোটের অভিন্ন অবস্থান তৈরির চেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে। এর মধ্যেই ‘ফ্যামিলি ফটো’তে মোদির দুই পাশে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি সম্মেলনের দৃশ্যমান প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি