তিন গোলের হার দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের
স্পোর্টস ডেস্ক
ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো (জিবিকে) স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চাপের মুখে ছিল লাল-সবুজের দল। প্রথমার্ধে দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল খেয়ে বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে তিন প্রবাসী ফুটবলারের। ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফোসা ও জিদান ইউসুফের জন্যও অভিষেকটা জয়ে রাঙানো সম্ভব হয়নি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে ৪৫ ধাপের ব্যবধান ছিল। মাঠের পারফরম্যান্সেও শুরু থেকেই মালয়েশিয়ার আধিপত্য দেখা যায়। দুই উইং ব্যবহার করে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করে তারা। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম সুযোগ পায় মালয়েশিয়া। বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল হালিমের জোরালো শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ হাত দিয়ে ঠেকিয়ে পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
তবে ১৮ মিনিটে আর গোল ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ। লাইনা নুয়ারের লং পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পান আরিফ আয়মান। সেখান থেকে কোনাকুনি শটে শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। শাকিল আহাদ তপু তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি। এ গোলটি মালয়েশিয়ার জার্সিতে আরিফ আয়মানের নবম গোল।
গোল হজমের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মালয়েশিয়ার হাতেই ছিল। ২৬ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড বার্গসন বাংলাদেশের গোলমুখে জোরালো শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর ৩৩ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে রাকিব হোসেন ব্যাকহিলে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার নেওয়া শট গোলপোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৩৭ মিনিটে নিজেদের ভুলেই দ্বিতীয়বার গোল হজম করে বাংলাদেশ। শাকিল আহাদ তপুর ভুলে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে যান আরিফ আয়মান। সময় নিয়ে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক শ্রাবণকে পরাস্ত করেন তিনি। এতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড এবং মালয়েশিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বিরতির আগে ব্যবধান কমানোর জন্য চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মালয়েশিয়ার রক্ষণভাগে কার্যকর চাপ তৈরি করতে পারেনি থমাস ডুলির দল। ফলে দুই গোল পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়। ফারহান আলী ওয়াহিদ ও ফাহমিদুল ইসলামকে তুলে শাহরিয়ার ইমন ও শুকি ইতোফোসাকে মাঠে নামানো হয়। জাপানি বংশোদ্ভূত শুকির মাধ্যমে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। তবে পরিবর্তনের পরও মালয়েশিয়ার আক্রমণ থামানো যায়নি।
৫২ মিনিটে ম্যাচের তৃতীয় গোল পায় মালয়েশিয়া। বল পেয়ে দ্রুত ঘুরে ডান পায়ের দৃষ্টিনন্দন শটে গোল করেন বার্গসন। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সামনে থাকা শাকিল আহাদ তপু বলের গতি বুঝে ওঠার আগেই সেটি জালে জড়িয়ে যায়। এতে মালয়েশিয়ার ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০।
এরপর বাংলাদেশ আরও দুটি পরিবর্তন আনে। শেখ মোরসালিন ও জিদান ইউসুফকে মাঠে নামানো হয়। অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে উঠে জাতীয় দলে অভিষেক হয় জিদানের। তাদের জায়গা করে দিতে মাঠ ছাড়েন শমিত সোম ও তারিক কাজী।
৭৬ মিনিটে গোল শোধের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায় বাংলাদেশ। শাহরিয়ার ইমনের পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পান হামজা চৌধুরী। প্রথম শটটি মালয়েশিয়ার গোলরক্ষকের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ফিরতি বলেও শট নেন হামজা, কিন্তু এবারও মালয়েশিয়ার রক্ষণে বাধা পায় বল।
এরপর ৮২ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের নেওয়া দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই মালয়েশিয়া আবার গোলের সুযোগ তৈরি করে। বার্গসনের শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে।
শেষদিকে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ৩-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি। পাশাপাশি রক্ষণভাগেও কয়েকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে মালয়েশিয়া। বিপরীতে মালয়েশিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের ধার ধরে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে।
আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচ শেষে এখন পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে সোমবার স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে থমাস ডুলির দল।